উম্মুল মু'মিনীন হযরত সাওদা বিনতে জাম'আ রদিয়াল্লাহু আনহা এর জীবনী শেষ পর্ব | Mother of the believers Saodah (RA)

 


হযরত সাওদা বিনতে জাম'আ রদিয়াল্লাহু আনহা 


উম্মুল মুমিনিন সাওদা বিনতে জামআ রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুলের সংসারে খাদিজার স্থলাভিষিক্ত হলেন। রাসুলের অবিবাহিত দুই কন্যা উম্মে কুলসুম ও ফাতেমা তখন রাসুলের সংসারে। তাঁদের দেখভাল এবং সাংসারিক দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি রাসুলের ঘরে এলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামও সাওদার হাতে সংসারের দায়িত্ব তুলে দিয়ে ইসলাম প্রচারের কাজে পূর্ণোদ্যমে আত্মনিয়োগ করলেন। এ সময়কালে তিনি তায়েফের শাকিক গোত্রের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যান এবং সেখান থেকে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে আসেন।

২৬ দিনের দীর্ঘ সফর ছিল। ২৬ দিন পরে যখন তিনি বিক্ষত অবস্থায় ফিরে আসেন, তখন সাওদা তাঁর শ্রেষায় নিজেকে বিলিয়ে দেন। মমতা নিয়ে রাসুলের বিক্ষত শরীর থেকে আঘাতের ব্যথা উপশমে অস্থির হয়ে পড়েন।

গিরিপথে নির্বাসনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ইথিওপিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা অনেক মুসলিম মক্কায় ফিরে আসেন। দিন দিন মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছিল এবং কুরাইশদের অত্যাচারের মাত্রাও বেড়ে যাচ্ছিল। এ সময় ইয়াসরিব থেকে একদল লোক এসে রাসুলকে মক্কা ছেড়ে তাদের লোকালয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাল। সে সঙ্গিন সময়ে রাসুলের জন্য এটা ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক সংবাদ। রাসুল তাদের প্রস্তাব ভেবে দেখবেন বলে কথা দেন এবং আগামী বছর হজের মৌসুমে ইয়াসরিবের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তিনি বিস্তারিত আলাপ করবেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করলেন।

এভাবেই ইয়াসরিব তথা মদিনায় হিজরতের পটভূমি তৈরি হলো। পরবর্তী বছরগুলোতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম মদিনার নেতৃস্থানীয় লোকজনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান এবং তিনিসহ তাঁর সকল সাহাবির মদিনায় যাওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান।

২২ সফর মোতাবেক ১২ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিষ্টাব্দ। সাওদার সঙ্গে বিয়ের তিন বছর পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁর জিম্মায় নিজের কন্যাদের এবং সাংসারিক সকল দায়দায়িত্ব অর্পণ করে রাতের আঁধারে মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনার পথে হিজরত করলেন। সাওদার জন্য এ ছিল এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। কুরাইশদের পক্ষ থেকে অনেক কিছুই ঘটার আশঙ্কা ছিল, আবার রাসুলের বিদায়-পরবর্তী দুশ্চিন্তা তো ছিলই। তবু তিনি অকুতোভয় হয়ে সবকিছু সামলে নিলেন এবং রাসুলের পরবর্তী নির্দেশনার অন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। কুরাইশদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রাসুলের কন্যাদের নিজের বুকে আগলে রাখলেন তিনি। খাদিজার রেখে যাওয়া বুকের ধনকে তিনি মায়ের মমতায় নিজের বুকে স্থান দিলেন। রাসুল মদিনায় যাওয়ার তিন মাস পর স্ত্রী-কন্যা এবং পরিবারের অপরাপর সদস্যদের নেওয়ার জন্য তাঁর পালক পুত্র জায়েদ ইবনে হারিসা এবং আবু বকরের পরিবারের জন্য তাঁর ভৃত্য আবু রাফে ও আবদুল্লাহ ইবনে উরাইকিতকে মক্কায় পাঠান। তাদের সঙ্গে সাওদাসহ রাসুলের পরিবার ও আবু বকরের পরিবার রাতের আঁধারে মক্কা ছেড়ে মদিনার পথ ধরেন। কয়েক দিনের দীর্ঘ মরুপথ পাড়ি দিয়ে সকলে মদিনায় এসে পৌঁছান।
দীর্ঘ ১৩ বছর উম্মুল মুমিনিন সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুলের সঙ্গে সংসার করেছেন। খাদিজার পর তিনিই সবচেয়ে বেশি দিন রাসুলের সান্নিধ্যলাভে ধন্য হয়েছেন। রাসুলের ঘর, পরিবার, কন্যাদের তিনি আপন ভালোবাসায় আগলে রেখেছিলেন। মদিনায়ও এর ব্যত্যয় হলো না। যদিও বয়স হয়ে গিয়েছিল, তবু
তিনি সর্বদা নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন নিবিষ্টচিত্তে। মদিনায় আসার কিছুদিন পর রাসুলের কিশোরী স্ত্রী আয়েশা রাসুলের ঘরে আসেন। আয়েশা অল্পবয়া ছিলেন বলে সাওদা ঘরকন্নার যাবতীয় বিষয় আয়েশাকে শিখিয়ে দিতেন। নিজের সতিন হলেও আয়েশাকে তিনি নিজের মেয়ের মতো গড়ে তুলেছিলেন। উম্মুল মুমিনিনদের মধ্যে আয়েশার সঙ্গে সবচেয়ে সস্তাব ছিল সাওদার। আয়েশাও যথেষ্ট সম্মান করতেন সাওদাকে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সাওদার ব্যাপারে বলতেন- 'সাওদা ছাড়া আর কোনো নারীকে দেখে আমার এমন মনে হয়নি আহা! যদি তাঁর দেহে আমার হৃদয় ফুঁকে দেওয়া হতো। তবে তিনি কিছুটা মেজাজি ছিলেন। মুহূর্তেই রেগে যেতেন আবার মুহূর্তেই তাঁর রাগ পড়ে যেত।

তখনো পর্দার বিধান অবতীর্ণ হয়নি। মদিনার অন্য নারীদের মতো সাওদাও প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য পার্শ্ববর্তী জঙ্গলের নির্দিষ্ট স্থানে যেতেন। এ বিষয়টি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পছন্দ হতো না। তিনি এ বিষয়ে রাসুলের কাছে অভিযোগ করলেন উচ্ছ্বল মুমিনিনগণ কেন সাধারণ নারীদের মতো বাইরে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে যাবেন? সমাজে ভালো-মন্দ সব প্রকার লোকই আছে, তাই এটা তাঁদের জন্য শোভনীয় নয়। যেহেতু তখনো পর্দার বিধান অবতীর্ণ হয়নি, তাই রাসুল এ ব্যাপারে তখনই কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করলেন না, বরং তিনি নীরবতা অবলম্বন করলেন। কিন্তু উমর বিষয়টি নিয়ে নিজেই উদ্যোগী হলেন।

সাওদা দীর্ঘাঙ্গী এবং খানিকটা মোটা ছিলেন। বাইরে বেরোলে তাঁর অবয়ব দেখে সহজেই তাঁকে চিনে ফেলা যেত। এক রাতে তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন
সারার জন্য বাইরে বের হয়েছেন, এমন সময় উমর সে পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি সাওদাকে দেখে আঁতকে উঠে বললেন, 'হে সাওদা, আমি তো আপনাকে চিনে ফেলেছি।

সাওদার জন্য এটা ছিল আত্মসম্মানে আঘাত লাগার মতো বিষয়। আবার উমরও সংশোধনের জন্যই এমন অনভিপ্রেত কাজ করেছিলেন। যা হোক, সাওদা রাসুলের কাছে উমরের ব্যাপারে নালিশ করলেন।

এর কিছুদিন পরই পর্দার বিধান অবতীর্ণ হয়।
রাসুলের সঙ্গে তাঁর প্রেমময় জীবনের খুব সংক্ষিপ্ত অংশই সিরাত ইতিহাসে বিবৃত হয়েছে। যেহেতু তিনি নিজে অত্যন্ত অল্পসংখ্যক হাদিস বর্ণনা করেছেন, এ কারণে তাঁর জীবনের এ অধ্যায় মুসলিম উম্মাহর কাছে অথরাই রয়ে গেছে। রাসুলের সঙ্গে তাঁর একটি হাস্যরসাত্মক ঘটনা প্রসিদ্ধ রয়েছে। এক রাতে সাওদা রাসুলের সঙ্গে নামাজ পড়ছিলেন। নামাজের মধ্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ রুকু-সেজদা করছিলেন। রুকু-সেজদা এতই দীর্ঘ হচ্ছিল যে, দীর্ঘাঙ্গী ও ভারী শরীরের সাওদার জন্য দীর্ঘক্ষণ রুকু সেজদা করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

সকালবেলা তিনি রাসুলের কাছে অভিযোগের সুরে বলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল। কাল রাতে আপনি এত দীর্ঘ দীর্ঘ রুকু-সেজদা করছিলেন, মনে হচ্ছিল আমার নাক ফেটে রক্তই পড়ে কি না। তাঁর এমন সহজ-সরল কথায় রাসুল হেসে ওঠেন। শেষ বয়সে বার্ধক্যের দরুন তিনি কানে কিছুটা কম শুনতেন। এটা নিয়ে অন্য উম্মুল মুমিনিনরা অনেক সময় টিপ্পনী কাটতেন তাঁর সঙ্গে। তিনিও তাঁদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করতেন। সাওদার বয়স তখন মধ্য ঘাটে।

রাসুল মুহাম্মদের সাম্য, সমতা ও ন্যায়বিচারের কথা সবাই জ্ঞাত। বিশেষত মদিনায় তখন রাসুলের একাধিক স্ত্রী বিদ্যমান, তাঁদের মধ্যে সমতা বিধানের ব্যাপারে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। অসমতার ব্যাপারে কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ আসুক, এ ব্যাপারে সর্বদা সচেতন থাকতেন। কাজে-কর্মে, সঙ্গ ভালোবাসায় তিনি চেষ্টা করতেন সকলের অধিকার সমান রাখতে। কখনো এর ব্যত্যয় হোক, এ তিনি মোটেও চাইতেন না।
এই সচেতনতার পরিপ্রেক্ষিতেই একদিন তিনি সাওদার মুখোমুখি হলেন। তাঁকে জানালেন, তুমি ইচ্ছে করলে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে নিতে পারো। কেননা আমার মনে হচ্ছে, তোমার বয়োবৃদ্ধতার দরুন অনেক ক্ষেত্রেই আমি অন্য স্ত্রীদের সঙ্গে তোমার সমতা বিধান করতে পারছি না। এমন অসাম্য আমার জন্য মনোবেদনার।

মধ্য ষাটের সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহা ভয় পেয়ে গেলেন। দুশ্চিন্তাহত হলেন। রাসুলের মুখে "বিবাহবিচ্ছেদ' শব্দটি তাঁর হৃদয়ে যেন শেল হয়ে বিদ্ধ হলো। তিনি জলদি জবাব দিলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! স্বামীর জন্য নতুন বউয়ের যে অনুভূতি ও প্রেম, তা তো আমার থেকে অনেক আগেই বিদায় নিয়ে গেছে। আমি এখন শুধু এটুকু চাই আমাকে আপনার স্ত্রী হিসেবে আমৃত্যু স্বীকৃত রাখুন এবং এ পরিচয় নিয়েই রোজ হাশরে আমি আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে চাই। সাওদার এমন প্রস্তাবে রাসুলের দুশ্চিন্তা অনেকটা প্রশমিত হলো। তিনি প্রশান্ত হৃদয়ে সাওদার প্রস্তাব মেনে নিলেন। রাসুলের এমন দিল দরাজ আচরণের পর সাওদা রাসুলকে কিছু একটা উপহার দেওয়ার কথা ভাবলেন। কী হতে পারে উপহার? তিনি রাসুলকে জানালেন, স্ত্রীদের মধ্যে সমতা বিধানের জন্য তাঁর ভাগে যে দিনটা পড়বে, অর্থাৎ যেদিন তাঁর ঘরে রাসুলের রাত্রিবাসের পালা থাকবে, সে দিনটা তিনি তাঁর বান্ধবী আয়েশাকে দিয়ে দিতে চান।

যেহেতু আয়েশা কেবলই কিশোরী এবং রাসুলকে কাছে পাওয়ার জন্য তাঁর মনের অস্থিরতা অন্য আর সবার চেয়ে বেশি, এ কারণে সাওদা নিজের পালার
দিনটি আয়েশাকে উপহার দিয়ে দিলেন। সাওদার এমন বুদ্ধিমত্তায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম অভিভূত হলেন। তবে তাঁর এমন সুযোগদানের পরও রাসুল কখনো তাঁর অন্যান্য
অধিকারের ব্যাপারে অসমতা করেননি। সকল ক্ষেত্রে তাঁকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার দিতে সচেষ্ট থাকতেন।

একবার উম্মুল মুমিনিনদের অনেকেই রাসুলের সঙ্গে একত্রে বসে ছিলেন। কোনো এক স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! আপনার পরলোকগমনের পর স্ত্রীদের মধ্যে কে সবার আগে আপনার সঙ্গে মিলিত হবে? রাসুল উত্তর দিলেন, 'তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে বড়, সে আমার
সঙ্গে সবার আগে মিলিত হবে।' রাসুলের এমন উত্তরের পর সবাই যার যার হাত মাপতে লাগলেন। দেখা গেল, সাওদার হাত সবার চেয়ে বড়।
কিন্তু উম্মুল মুমিনিনদের মধ্যে রাসুলের ইস্তেকালের পর সবার আগে পরলোকগমন করেন জয়নব বিনতে জাহাশ। তখন অন্য উম্মুল মুমিনিনরা বুঝতে পারেন, বড় হাত দিয়ে রাসুল মূলত দানশীলতায় যার হাত অধিক বড়, এটা বোঝাতে চেয়েছিলেন। জয়নব বিনতে জাহাশের দানশীলতার কথা মক্কা-মদিনায় মশহুর হয়ে ছিল।

বিদায় হজ্বের সময় রাসুলের সঙ্গে তাঁর সকল স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। সবাই একসঙ্গে তাওয়াফ এবং হজ্বের অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করেন। কিন্তু মোটা হওয়ার কারণে ভিড়ের মধ্যে চলতে কষ্ট হতো সাওদার। এ জন্য রাসুল তাঁকে রাতের বেলা অন্যদের আগেই মুজদালিফার কার্যাদি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন, যাতে ভিড় হওয়ার আগেই তিনি কার্যাদি শেষ করতে পারেন। এ হজের সফরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের বলেন,

"এটাই হয়তো শেষ হজ। এ হজের পর তোমাদের হয়তো ঘরে বসে থাকতে হবে। এ কথার দ্বারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম মূলত বোঝাতে
চেয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে স্ত্রীদের এটাই শেষ হজ হতে পারে। এরপর তিনি আর হজ করার সুযোগ না-ও পেতে পারেন। কিন্তু রাসুলের কথাকে মান্য করার
অভিপ্রায়ে তাঁর মৃত্যুর পরও সাওদা ও জয়নব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহ আনহা কখনো হজ পালন করেননি। তাঁরা সর্বদা তাঁদের ঘরেই থাকতেন।

খোদাভীতি ও ইবাদত-বন্দেগিতে সাওদার আগ্রহ সবাইকে চমকিত করত। তিনি নিজেই উপার্জন করতেন। তায়েফ থেকে প্রক্রিয়াজাতকৃত চামড়া এনে তিনি বিভিন্ন গৃহস্থালি জিনিস বানিয়ে বিক্রি করতেন এবং উপার্জিত অধিকাংশ অর্থই গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করে দিতেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে একবার খলিফা উমর এক থলে দিরহাম সাওদার কাছে হাদিয়াস্বরূপ পাঠালেন। সেবিকা দিরহামের থলেটি তাঁর সামনে রাখলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী এটা? তাঁকে জানানো হলো, খলিফা তাঁর জন্য এক হাজার দিরহাম হাদিয়া পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, এ দিরহামের থলে তো খেজুরের থলের মতোই। (এগুলো আমার কাছে খেজুরের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়) এ কথা বলে তিনি সব দিরহাম গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিলেন।

রাসুলের ১৩ বছরের অর্ধাঙ্গিনী উম্মুল মুমিনিন সাওদা বিনতে জামআ রাদিয়াল্লাহু আনহা খলিফা উমরের খেলাফতকালের শেষ দিকে ২০ অথবা ২২
হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। অনেক ইতিহাসবীদ তাঁর ইন্তেকাল হজরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে ৫৪ হিজরিতে হয় বলে মত দিয়েছেন। তাঁর প্রথম স্বামী সাকরান ইবনে আমরের ঘরে আবদুর রহমান নামের এক সন্তান ছিলেন। তিনি মুসলমান হয়েছিলেন এবং পারস্যে জানুলার যুদ্ধে শহিদ হন। সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহা সর্বমোট পাঁচটি হাদিস বর্ণনা করেন।

এক নজরে

জন্ম: ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ। বিয়ে: বিয়ের সময় সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহার বয়স ছিল ৫০ এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল ৫০

বিবাহ সন: ৬২০ খ্রিষ্টাব্দ মোতাবেক নবুওয়াতের দশম বর্ষের রমজান মাসের শেষের দিকে।

দাম্পত্যজীবন: রাসুলের সাথে তাঁর দাম্পত্যকাল ১৩ বছর। মৃত্যুসন: হিজরি ১৯/২০/২২ সনে। দাফন: মদিনার জান্নাতুল বাকিতে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২/৭৩/৭৫ বছর।


No comments

Powered by Blogger.