উম্মুল মু'মিনীন হযরত সাওদা বিনতে জাম'আ রদিয়াল্লাহু আনহা এর জীবনী ১ম পর্ব | Mother of the believers Saodah (RA)


হযরত সাওদা বিনতে জাম'আ রদিয়াল্লাহু আনহা


সাওদা বিনতে জামআর পরিবারে তিনিই প্রথম ইসলাম গ্রহণ করলেন। নানাজনে নানা কথা বলল, নানাভাবে তাঁকে হেয় করার চেষ্টা করল, তবু তিনি

দমলেন না। তিনি বিবাহিতা। স্বামী সাকরান ইবনে আমর প্রথম প্রথম তাঁর নতুন ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারটি ভালো চোখে না দেখলেও কয়েক দিন পর স্ত্রীর

প্রণোদনায় তিনিও ইসলাম গ্রহণ করলেন। ইসলাম গ্রহণের বিষয় মক্কায় তখন সহজ ছিল না। নবুওয়াতের প্রথম কাল অতিবাহিত হচ্ছিল। যারাই নতুন নবি মুহাম্মদের ধর্ম গ্রহণ করছিল, তারা মক্কার বিধর্মী পৌত্তলিকদের দ্বারা নানাভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছিল। সাওদা ও সাকরানও তাদের রক্তচক্ষু এড়াতে পারলেন না। অপমান ও নির্যাতনের জাঁতাকল তাঁদেরও নিষ্পেষণ করতে লাগল। বেশ কিছুদিন মুখ বুজে সহ্য করলেন তাঁরা। আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁদের ধৈর্য ধরতে বললেন। কিন্তু এমন অত্যাচার আর কত দিন সহ্য করা যায়? পথে-ঘাটে, বাড়িতে-বাজারে, আড়ালে জনসম্মুখে তাঁদের ওপর অকথ্য গঞ্জনা নিপতিত হতে লাগল। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলো তাঁরাসহ অধিকাংশ সাহাবির।


এমন সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলের কাছে হিজরতের নির্দেশ এল। তিনি যেন তাঁর অনুসারীদের লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ইথিওপিয়ায় (হাবশা) চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। রাসুল তাঁর অনুসারীদের আল্লাহর এ পরগাম শোনালেন যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা যেন কিছুদিনের জন্য ইথিওপিয়ায় চলে যান। মক্কার অবস্থা স্বাভাবিক হলে বা ভিন্ন কোনো উপায়ে মুসলিমদের অবস্থার উন্নতি হলে তাঁদের ডেকে আনা হবে। এভাবে নির্যাতন সহ্য করে জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার কোনো মানে হয় না।


কিছুদিন আগেই আম্মার ইবনে ইয়াসিরের মা সুমাইয়া এবং পিতা ইয়াসিরকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে কুরাইশনেতা আবু জেহেল ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। তাঁরা দুজন ইসলামের প্রথম শহিদ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের পর রাসুলের মনে সাহাবিদের নিয়ে ভয় সঞ্চার হয়। কাফেরদের নির্যাতনে আর একজন সাহাবির প্রাণ যাক, এটা তিনি হতে দিতে পারেন না। এ কারণেই অপারগ সাহাবিদের মক্কা থেকে ভিন্ন কোনো দেশে হিজরত করার ব্যাপারে জোর দেন।


সাওদা ও সাকরান দুজনই হিজরতের সিদ্ধান্ত নিলেন। সাহাবিদের একটি দল এরই মধ্যে কুরাইশদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইথিওপিয়ায় চলে গেছেন। সাওদা ও সাকরান হিজরতকারী প্রথম দলের সঙ্গে যেতে না পারলেও সঙ্গোপনে দ্বিতীয় মুহাজির দলের সঙ্গী হয়ে গেলেন। কুরাইশদের অজ্ঞাতসারে রাতের আঁধারে মক্কা থেকে পালিয়ে কয়েক দিনের পথ পাড়ি দিয়ে উপকূলে এসে চড়ে বসলেন ইথিওপিয়াগামী জাহাজে।


একসময় পৌঁছে গেলেন ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ইথিওপিয়ায়। কিন্তু সেখানে অবস্থানও খুব একটা সুখের ছিল না। একে তো ভিন দেশ, সবকিছু মাতৃভূমির মতো আপন নয়; অন্যদিকে মক্কার কুরাইশরা লোক পাঠিয়ে ইথিওপিয়ার শাসক নাজ্জাশির কাছে তাঁর রাজ্যে আশ্রিত মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকে। নাজ্জাশি যদিও কুরাইশদের দূতিয়ালিতে প্রভাবিত হলেন না, কিন্তু

আশ্রিত মুসলিমরা সব সময় নিরাপত্তার অভাব বোধ করতেন। সাওদা ও সাকরান ইথিওপিয়ার উদাত্ত শিবিরের একটি ঘরে শুয়ে আছেন। ঘুমঘোরে সাওদা স্বপ্নে দেখলেন-আকাশে ভরা পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে। তিনি চাঁদের দিকে তাকাতেই চাঁদটি আকাশ থেকে ছুটে এসে তাঁর কোলে পড়ল।


তিনি ঘুম থেকে জেগে ওঠে স্বামী সাকরানকে স্বপ্নের কথা বললেন। সাকরান স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, 'খুব সম্ভব আমার মৃত্যুর পর তুমি আমাদের রাসুল মুহাম্মদের স্ত্রী হবে। এমন অকপট স্বীকারোক্তি সাওদাকে বিহ্বল করে তুলল। এ কীভাবে সম্ভব! তিনি তাঁর স্বামীর বাহু আঁকড়ে ধরলেন।

ইথিওপিয়ার পরিবেশ নানা প্রতিকূলতায় ভরা। তবু সবকিছু সহ্য করে বেশ কিছুদিন সেখানে স্বামীর সঙ্গে রইলেন সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহা। মাতৃভূমির জন্য মন কেঁদে ওঠে প্রায়ই। কিন্তু মনকে প্রবোধ দিয়ে রাখেন সবকিছু একদিন ঠিক হয়ে যাবে।


নবুওয়াতের দশম বছরে হঠাৎ খবর এল, মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে রাসুলের সম্ভাব হয়ে গেছে এবং মক্কায় এখন আর কোনো সমস্যা নেই। সকল মুসলিম সেখানে সুখে-শান্তিতে বসবাস শুরু করেছে। এটা যদিও অসমর্থিত সূত্রের সংবাদ ছিল কিন্তু উদ্ভ্রান্ত জীবন থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সাওনাসহ অন্য অনেকে নিজেদের মনকে আর প্রবোধ দিতে পারলেন না। ফলে খুব সংক্ষিপ্ত প্রস্তুতিতে এক কাফেলার সঙ্গে মক্কার পথে রওনা হয়ে গেলেন স্বামী-স্ত্রী দুজনই । পথিমধ্যে এক করুণ ঘটনা ঘটল। সাওদার স্বামী সাকরান রাদিয়াল্লাহু আনহু সফরাবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং অসুস্থতার প্রকোপে তিনি মক্কায় পৌঁছার আগে অজ্ঞাতনামা এক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন।


সাওদার জন্য এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়াটা সহজ ছিল না। একে তো তিনি কেবলই দেশান্তর থেকে নিজ দেশে ফিরছিলেন, সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে তাঁর স্বামী ছাড়া আর কেউ ছিল না; অপরদিকে মক্কায় ফিরে তাঁর অবস্থা আরও শোচনীয় হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। মক্কার কুরাইশদের বিরুদ্ধাচরণ তো আছেই, তা ছাড়া জীবনধারণের জন্য তাঁর তেমন কোনো সম্পদের ব্যবস্থা ছিল না। যা-ই হোক, বিধবা অবস্থায় একপ্রকার নিঃস্ব হয়ে তিনি ইথিওপিয়া থেকে মক্কায় ফিরে এলেন। মক্কায় এসে আল্লাহর রাসুলের নির্দেশনা অনুযায়ী ধৈর্যধারণ করে নিজগৃহে বসবাস করতে লাগলেন।


কুরাইশ গোত্র কর্তৃক রাসুল মুহাম্মদ ও সাহাবিদের ওপর আরোপিত আবু তালিব গিরিপথে নির্বাসনের নিষেধাজ্ঞা তখন কেবল শেষ হয়েছে। নির্বাসনের যাতনাময় দিনগুলো শেষে রাসুল যখন মক্কার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলেন, সেখানে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল আরও বেদনার পারাবার। মক্কায় ফিরে আসার কয়েক দিন পরই তাঁর অন্যতম অভিভাবক ও ভরসাস্থল চাচা আবু তালিব দীর্ঘ রোগে ভুগে মৃত্যুবরণ করলেন। সঙ্গিন এ মুহূর্তে আবু তালিবের মৃত্যু রাসুলকে বিহ্বল করে তোলে। এমন বিহ্বলতা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই তাঁর প্রাণপ্রিয় স্ত্রী খাদিজাও রোগ-শোকে পরকালের পথে পাড়ি জমান।


খাদিজার মৃত্যু মুহাম্মদকে একেবারে গুঁড়িয়ে দিল। দীর্ঘ ২৫ বছর এই খাদিজা তাঁকে পাখির ছানার মতো আগলে রেখেছিলেন নিজের ভরসার চাদরের নিচে। মক্কার মানুষের সকল জিঘাংসা থেকে তিনি তাঁকে সযতনে আড়াল করতে প্রাণপণে সচেষ্ট ছিলেন। খাদিজা ছিলেন তাঁর জন্য এক মহিরুহুল বৃক্ষের মতো, যে কেবল ফল আর ছায়াই দেয়নি, প্রবল ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকেও রেখেছিল নিরাপদ।


আবু তালিব ও খাদিজার মৃত্যু রাসুলকে ম্রিয়মাণ করে তোলে। তিনি বিমর্ষ হয়ে পড়লেন। অপরদিকে এ দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির মৃত্যুর পর মক্কার পৌত্তলিক কুরাইশদের নির্যাতনের মাত্রাও বেড়ে যেতে থাকে। রাসুল এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর নিপীড়নের নানা পদ্ধতি প্রয়োগ করতে শুরু করে তারা। সবদিক থেকে তিনি অকূলপাথারে পড়ে গেলেন। খাওলা বিনতে হাকিমের কথা বলতে হয়। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবি উসমান ইবনে মাজাউনের স্ত্রী। স্বামী-স্ত্রী দুজনই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ইসলাম আগমনের প্রাথমিক সময়ে। রাসুলকে বড় সম্মান করতেন তিনি।


খাদিজার সঙ্গেও ছিল তাঁর সম্ভাব, অন্তরঙ্গ বান্ধবী ছিলেন দুজন। খাদিজা মারা যাওয়ার পর তাঁর জন্য রাসুলের বিরহ তিনি সইতে পারলেন না। প্রায়ই দেখতেন আল্লাহর রাসুল বিষণ্ণ মন নিয়ে কাজে বেরোচ্ছেন। ঘরে এসেও সেই বিষণ্ণতা অক্ষুণ্ণ থাকত। রাসুলের এমন বিষণ্ণতা তাঁর ভালো লাগত না।খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা গত হওয়ার কিছুদিন পর একদিন তিনি এলেন রাসুলের কাছে। উদ্দেশ্য-রাসুলের বিয়ের পয়গাম। কিন্তু আবার ভয়ও হচ্ছে, রাসুল আবার কিছু মনে করেন কি না। কিছুক্ষণ রাসুলের সঙ্গে এটা-সেটা নিয়ে কথা বলার এক ফাঁকে সাহস করে বলেই ফেললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল!


আপনি আরেকটা বিয়ে করুন না। খাওলার কথায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম প্রথমে হ্যাঁ বা না কিছু বললেন না। বরং তিনি খাওলাকে তাঁর নিজের অবস্থাটা বোঝালেন। তিনি বর্তমানে মক্কার সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তি। নতুন ধর্ম ইসলামের পথে আরবের মানুষকে আহ্বান করার ফলে কুরাইশসহ অধিকাংশ গোত্রের লোকজন তাঁকে দেখতে পারে না। অধিকাংশ নেতা তাঁর বিরুদ্ধবাদী। এই তো কিছুদিন আগে তিন বছরের নির্বাসন জীবন পার করে এসেছেন আবু তালিব

গিরিপথের বিক্ষুব্ধ পাদদেশে।

কুরাইশরা পারলে তাঁকে হত্যা পর্যন্ত করতে দ্বিধা

করবে না। এমন একজন লোককে কোন মেয়ে বিয়ে করতে চাইবে? আর কোন পিতাই-বা তার মেয়েকে এমন একজন বিতর্কিত লোকের হাতে সোপর্দ করতে

চাইবে?


মক্কার সবাই তো আর খাদিজা নয় যে মুহাম্মদের হৃদয়ের আলোকরশ্মি দেখে অভিভূত হয়ে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেবে। আর তা ছাড়া তাঁর

বর্তমান সংসারে দুটো মেয়ে আছে। তাঁদের দেখভাল করার মতো স্ত্রী পাওয়া তো সুকঠিন ব্যাপার। এত সব দায় নিয়ে কেই-বা তাঁকে বিয়ে করতে চাইবে।

খাওলা রাসুলের মনোবেদনা বুঝতে পারলেন। রাসুলের মনোভাবটাও পড়তে পারলেন খুব ভালো করে। তিনি নিজের চাইতে অনাগত সহধর্মিণীর

ভবিষ্যৎটা বড় করে দেখছেন। কেননা তিনি তো রহমাতুল্লিল আলামিন, নিজের সুবিধার জন্য অন্য কারও সামান্য কষ্ট হোক, এমন কাজ করতে তিনি কখনো রাজি হবেন না।


খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুলকে অভয় দিয়ে বললেন, 'আপনি চিন্তা করবেন না, যদি রাজি থাকেন তাহলে ইচ্ছা করলে কুমারীও বিয়ে করতে

পারেন আবার বিধবাও বিয়ে করতে পারেন।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, 'এমন মেয়ে কে আছে?'

খাওলা রাসুলের আগ্রহ লক্ষ করে বললেন, 'আপনি কি কুমারী বিয়ে করতে চান নাকি বিধবা?'


"বলো দেখি তাদের বৃত্তান্ত "কুমারী আছে আপনার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু আবু বকরের কন্যা আয়েশা।


তিনি মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করলেন, 'আর বিধবা?"


"বিধবা আছে সাওদা বিনতে জামআ, যিনি অনেক আগেই মুসলমান হয়েছেন।


আল্লাহর রাসুল একটুক্ষণ চিন্তা করে বললেন, ঠিক আছে, তুমি দুজনের ব্যাপারেই কথা বলো। খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহুর মনটা আনন্দে নেচে উঠল। যাক, অবশেষে কিছুটা হলেও তিনি রাসুলের মনোবেদনা দূর করার একটা উপায় করতে পারছেন। একজন স্ত্রী থাকলে তাঁর সাংসারিক আর মানসিক জীবনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি আসবে। খাওলা আর দেরি করলেন না, রাসুলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তখনই

সাওদার বাড়ির দিকে গেলেন। কেননা প্রথমে রাসুলের একজন সার্বক্ষণিক সঙ্গী এবং একজন সংসারী নারীর প্রয়োজন, যিনি রাসুলের সেবা তো করবেনই আবার তাঁর সংসারের হালও ধরতে পারবেন শক্ত হাতে। এ কারণে সাওনার কাছে আগে প্রস্তাব পাঠানোকে তিনি আবশ্যিক মনে করলেন।


খাওলা সাওদার কাছে রাসুলের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলে তিনি বিনা বাক্যব্যয়ে এ প্রস্তাব মেনে নিলেন। সাওদা যথেষ্ট বুদ্ধিমান এবং বয়স্ক ছিলেন, সুতরাং রাসুলের সঙ্গে সম্বন্ধকে মেনে না নেওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাননি। অন্যদিকে তাঁর বৈষয়িক তেমন কোনো সম্পদ ছিল না, যার দ্বারা তিনি বৈধব্যের নিদারুণ দিনগুলো অতিবাহিত করবেন। তাঁর এমন দৈন্যদশা জেনেই রাসুল তাঁকে বিয়ের ব্যাপারে সম্মতি প্রদান করেন এবং তিনিও বিনা বাক্যব্যয়ে

এ প্রস্তাব কবুল করেন।


তবে শুধু সাওদার সম্মতিই যথেষ্ট ছিল না, তাঁর পিতা জামআ ইবনে কায়েস তখনো জীবিত ছিলেন। খাওলা যখন তাঁর পিতার কাছে গিয়ে আবদুল্লাহর ছেলে মুহাম্মদের সঙ্গে তাঁর কন্যার বিয়ের ব্যাপারে বললেন, তখন তিনি উল্লসিত হয়ে উঠলেন, 'এ তো খুব চমৎকার ও মানানসই সম্বন্ধ। তোমার বান্ধবী এ ব্যাপারে কী বলে?


খাওলা বললেন, 'সে এ প্রস্তাবে রাজি আছে।


যদিও সাওদার ভাই আবদুল্লাহ ইবনে জামআ (যিনি তখনো অমুসলিম ছিলেন, পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেন) এবং তাঁর এক চাচা এ বিয়েতে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন, কিন্তু তাঁদের মতামত ধোপে টেকেনি। আবদুল্লাহ ইবনে জামআ বোনের এ বিয়ের কথা শুনে রাগে-দুঃখে কপালে-মুখে ধুলো মেখে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। পরবর্তী সময়ে যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন এ ঘটনা স্মরণ করে বলতেন, 'পৃথিবীতে এর চেয়ে অপমানজনক আর কোনো স্মৃতি অবশিষ্ট নেই আমার। 


হিজরতের তিন বছর আগে রমজান মাসের কোনো এক দিন উম্মুল মুমিনিন সাওদার সঙ্গে আল্লাহর রাসুলের বিয়ে হয়ে গেল। এ সময় রাসুলের বয়স ছিল ৫০ এবং সাওদার ৫০।


শেষ পর্ব পড়ুন : 👉এইখানে ক্লিক করুন

No comments

Powered by Blogger.