উম্মুল মু'মিনীন হযরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ রদিয়াল্লাহু আনহা এর জীবনী ২য় পর্ব | Mother of the believers Khadija (RA)


 হযরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ  রদিয়াল্লাহু আনহা


[১]

দ্বিপ্রহর। মক্কা নগরী।


লোকটির পরনের বেশভূষা বেশ অদ্ভুত ধরনের। গায়ে লম্বা আলখাল্লা, বহু ব্যবহারে মলিন হয়ে গেছে। মাথায় একটা সাদা রুমাল জড়ানো, সেটাও বেশ পুরোনো। গলার দুই পাশ দিয়ে নেমে এসেছে একটি উত্তরীয়, সেটার রং খানিকটা তামাটে। লোকটি বয়স্ক, চেহারায় রাজ্যের বলিরেখার ছাপ। তবে বিশেষভাবে লক্ষণীয় তাঁর চোখ দুটো, অস্বাভাবিক রকমের চকচক করছে চোখজোড়া। বৃদ্ধলোকটি হাঁটছেন একটি লাঠি হাতে। যদিও তাঁকে দেখে বোঝা যাচ্ছে তিনি লাঠি ছাড়া হাঁটতে পারেন, তবু তিনি লাঠিটা ডান হাতে ধরে হেঁটে যাচ্ছেন মক্কার পথ ধরে। লোকটি সম্ভবত ইহুদি। ধর্মপ্রাণ বয়স্ক ইহুদিরা এ ধরনের লাঠি হাতে চলাফেরা করেন। লাঠি তাঁদের ধর্মের অন্যতম নিদর্শন। তাঁদের নবি মুসার যষ্টির সঙ্গে সাযুজ্য রাখতে তাঁরা এমন লাঠি ব্যবহার করেন।


লোকটি মাথা নিচু করে হাঁটছেন। হাঁটার সময় এদিক-সেদিক খুব একটা তাকাচ্ছেন না। তাঁর বেশভূষা আর চালচলন দেখে বোঝা যাচ্ছে, তিনি কোনো ব্যবসায়ী নন। এ সময়টা যদিও ব্যবসার জন্য অনুকূল নয়, তবু অনেক দূরান্তের ব্যবসায়ী পণ্য বিক্রি করতে এ সময় মক্কায় আসেন। তা ছাড়া এখন হজের মৌসুম নয়, হজের মৌসুমে দারুণ বাজার বসে কাবার আশপাশটায়। পুরো মক্কা তখন সরব হয়ে ওঠে তীর্থযাত্রী আর ব্যবসায়ীদের আনাগোনায়।


মক্কায় এখন ছোটখাটো একটা অর্চনার সময়। এ অর্চনা শুধু নারীদের জন্য। বিশেষ এ সময়টায় নারীরা তাওয়াফ করে কাবাঘর। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো কোনো কুসংস্কারাচ্ছন্ন বেদুইন গোত্রের মেয়েরা নগ্ন হয়ে তাওয়াফ করে প্রতিমাসজ্জিত কাবা। তাদের সঙ্গ দেয় তাদের স্বামী বা প্রেমিক কোনো পুরুষ। কাবায় সজ্জিত দেবতাদের মনোতুষ্টির জন্য নগ্নতা তাদের কাছে একধরনের উপাসনা ।


তবে আজকের দ্বিপ্রহরে তেমন কোনো বেদুইন মেয়েদের আনাগোনা নেই কাবাচত্বরে। মক্কার একদল নারী তাওয়াফ করছে কাবাঘর। তাদের মধ্যে পূর্ণবয়স্ক নারীরা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিশোরী ও অনূঢ়া তরুণীরাও। কাবাঘরে স্থাপিত লাত, মানাত, উজ্জা, হোবল দেবতার নামে তারা মুভিগীত গেয়ে নিজেদের সমর্পিত হৃদয়ের ভালোবাসা জানাচ্ছে। নিজেদের মনোবাসনা দেবতাদের চরণতলে ভক্তিসহকারে অর্পণ করছে। তাদের মুখে গীত, চোখ অশ্রুসজল, হৃদয় বিগলিত।

[২]

ঠিক এ সময় বৃদ্ধ লোকটি এলেন কাবাচত্বরে। কাবার চারপাশে তাওয়াফরত নারীদের দেখে তাঁর চোখ দুটোতে কী যেন এক চমক খেলে গেল। চত্বরের পাশে একটি উঁচু বেদিতে গিয়ে দাঁড়ালেন তিনি। পরখ করতে লাগলেন তাওয়াফরত নারীদের চলার গতি। নারীদের দলটি তাঁর কাছাকাছি আসতেই তিনি তাদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য জোরে হাঁক দিলেন, 'হে মক্কার নারীরা!"


নারীদের দলটি বৃদ্ধের বাজখাই আহ্বানে সচকিত হলো। তাওয়াফের সময় সাধারণত এভাবে কেউ কাউকে আহ্বান করে না। তারা তাওয়াফ থামিয়ে বৃদ্ধলোকটির দিকে তাকাল। কে এই লোক? তাঁকে তো মক্কার লোক বলে মনে হচ্ছে না। কেউ তাঁকে কখনো দেখেছে বলেও মনে করতে পারছে না। একজন বৃদ্ধ আগন্তুক কী বলতে চান মক্কার নারীদের? নারীদের দলটিকে সচকিত হতে দেখে বৃদ্ধ বলতে শুরু করলেন, 'আমি তোমাদের এক সুসংবাদ দিচ্ছি। শুনে রাখো নিঃসন্দেহে তোমাদের এ মক্কা নগরীতে একজন নবি আবির্ভূত হবেন। তাঁর নাম হবে আহমদ। তোমাদের মধ্যে যার সৌভাগ্য হয়, দ্বিধাহীনচিত্তে সেই নবির স্ত্রী হয়ে যেও।' মক্কার নারীদলটি দারুণ বিরক্ত হলো বৃদ্ধের এমন কথায়। বলা নেই কওয়া নেই কোথা থেকে এক উড়নচণ্ডী বুড়ো এসে বলে গেল-এ নগরীতে নবি আসবেন! 


মক্কার নারীরা যেন তাঁর স্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্যলাভে ধন্য হয়। কী সব আবোলতাবোল কথাবার্তা। আমরা আমাদের দেবতাদের ভালোবাসি, তাদের সম্মান করি, তাদের উপাসনা করি; আমরা কেন আমাদের দেবতাদের ছেড়ে কোনো নবির কথা শুনতে যাব? কে এই বৃদ্ধ? মাতাল, নাকি বিকারগ্রস্ত কোনো লোক? তাওয়াফের মাঝে এসে এমন উদ্ভট কথা বলার সাহস সে পেল কোথায়? কেউ কেউ পায়ের কাছ থেকে কয়েকটি নুড়ি উঠিয়ে ছুড়ে মারল বৃদ্ধের দিকে। মুখে গালমন্দের তুবড়ি ছুটিয়ে তেড়ে এল কয়েকজন। কেউ কেউ আঁচলের তল থেকে বের করল ধারালো বস্তুর-দেব নাকি লোকটিকে এফোঁড় ওফোঁড় করে। নারীদের এমন রুদ্রমূর্তি দেখে বৃদ্ধলোকটি সেখানে আর বেশিক্ষণ রইলেন না, কোনো রকম দৌড়ে নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে চলে গেলেন ফেলে আসা পথে।


কেন লোকটি এ কথাগুলো বলতে গেলেন মক্কার নারীদের? যারা ধর্মের নামে পুজা করে শত দেব-দেবীর, যারা কাবার সামনে উলঙ্গ হয়ে উপাসনা করে মানাতের, যারা হোবলের নামে বলি দেয় পশু, যারা এক ঈশ্বরের পরিবর্তে কাবাচত্বরে বসিয়েছে ৩৬০টি দেবমূর্তি, আগন্তুক বৃদ্ধ কেন এই অন্ধকারাচ্ছন্ন নগরীর নারীদের শোনাতে গেলেন এক অনাগত নবি আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী? তমসার এ ঘোর আঁধারে কোনো নারী কি কামনা করে একবিন্দু ঐশ্বরিক আলোকবিভার? তাদের মধ্যে কেউ কি আছে যে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত কোনো এক নবির আগমনে অপেক্ষমাণ?


কাবার পাশে একটি বাড়ির ছায়ায় বসে ছিলেন এক নারী। দীর্ঘকায়, উজ্জ্বল মুখাবয়ব, রক্তিম অধর, চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ। বয়স ত্রিশের

কোঠায়। যৌবনের লালিমা এখনো ঢাকা পড়েনি তাঁর বয়স ও আভিজাত্যের আড়ালে। এ নারীর নাম খাদিজা। খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ ।

মক্কার লোকেরা তাঁকে তাহিরা নামে ডাকে। কারণ, তাঁর চরিত্র যেমন নিষ্কলুষ তেমনি পবিত্র তাঁর জীবনালেখ্য। তিনি কখনো মূর্তিপূজা করেন না। কাবার তাওয়াকে কখনো এলে কেবল অদৃশ্য একক সত্ত্বার আরাধনা করেন আজও তিনি অন্য নারীদের সঙ্গে তাওয়াফে অংশ নেননি। তাঁর কয়েকজন স্বজন-বান্ধবী উপাসনায় মগ্ন, তিনি তাদের অপেক্ষায় বসে ছিলেন কাবার পাশে। এমন সময় শুনলেন বৃদ্ধের আগমনী আহ্বান। শোনার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অন্তর্মহলে শুরু হলো এক অভাবনীয় ভাঙচুর। একজন নবি আসবেন এ মক্কা নগরীতে, তাঁর বধূ হবেন এ নগরীর কোনো এক নারী! কে হবেন সেই সৌভাগ্যবতী?

[৩]

বৃদ্ধের কথায় অন্য নারীরা হাসাহাসি করলেও খাদিজা হাসতে পারলেন না। তাঁর ভেতরে তৈরি হতে লাগল এক তীব্র হাহাকার। যে হাহাকার আজ থেকে বহুদিন আগে তৈরি হয়েছিল তাঁর চাচাতো বোন উম্মে কিতালের হৃদয় অন্তঃপুরে। একজন নবির আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন তিনিও, কিন্তু ভাগ্য তাঁর সহায় হয়নি। এবার তাঁর ভাগ্যে কি হবে সেই নবির চরণতলে এক বিন্দু ভালোবাসার নজরানা পেশ করার? খাদিজার হৃদয় ব্যথায় কুঁকড়ে গেল। নবির সহধর্মিণী না হোক, অন্তত জীবদ্দশায় কি একবার দেখতে পারবেন ঐশী বিভায় আলোকিত সেই চন্দ্ৰমাহিয মুখাবয়ব?


চাচাতো ভাই ওয়ারাকার মুখে যেদিন প্রথম শুনেছেন শেষ নবি আগমনের সুসংবাদ, অত্যাসন্ন তাঁর মহাকাল। সেদিন থেকে হৃদয়ের ছোট্ট মণিকোঠায় সেই নবির জন্য সাজিয়ে রেখেছেন ভালোবাসার ফুলেল বাগিচা। নবি কি কখনো হাঁটবেন সে বাগিচার ফুল মাড়িয়ে? খাদিজা আর কিছু ভাবতে পারলেন না, কাবার পাশ থেকে উঠে গেলেন।


একা একা হাঁটতে লাগলেন ওয়ারাকা ইবনে নওফেলের বাড়ির দিকে। মক্কার আল-আজয়াদ মহল্লায় ওয়ারাকা ইবনে নওফেলের বাড়ি। খাদিজার বাড়িও এ মহল্লায়। অবশ্য তাঁর দাদা আসাদ ইবনে উজ্জার একটি বাড়ি রয়েছে ঠিক কাবাঘরের পাশেই। কাবার মাত্র কয়েক হাত দূরে অবস্থিত এ বাড়িকে মক্কার লোকেরা ডাকে 'কাবার বোন' বলে। কাবা-সংলগ্নতার কারণে এ বাড়ির এমন নামকরণ। শুধু সংলগ্নতা নয়, এ বাড়ির একটি গাছের ডাল ঝুঁকে আছে কাবাচত্বরের ওপরে। কাবা তাওয়াফ করতে আসা তীর্থযাত্রীরা তাওয়াফের সময় বাধার সম্মুখীন হন এ ডালের কারণে। হাজিদের সুবিধার্থে উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এ ডালটি কেটে ফেলেন, বিনিময়ে বাড়িওয়ালাকে একটি গরু প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে কাবা সম্প্রসারণের সময় উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু পুরো বাড়িটি কিনে তা মাতাফের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। বাড়ির দহলিজে বসে ছিলেন ওয়ারাকা। দহলিজে একা তিনি। মরুর তপ্ত দুপুরের এ সময়টা একেবারে খই ফুটিয়ে তোলে মক্কাজুড়ে। কেউ সাধারণত ঘরের বাইরে বেরোয় না জরুরি প্রয়োজন ছাড়া।


ওয়ারাকা দহলিজে বসে নিবিষ্টমনে কিছু জপ করছিলেন। তিনি মূর্তিপূজায় বিশ্বাসী নন। যদিও বিশ্বাসের দিক থেকে তিনি খ্রিষ্টান কিন্তু খ্রিষ্টধর্ম বা ইহুদি ধর্মেও তিনি খুব একটা আস্থা রাখেন না। তিনি ভালো করেই জানেন, এ দুই ধর্ম আর তাদের উৎসমূলে সঠিকভাবে নেই। কালের গর্ভে যেমন বিলীন হয়ে তেমনি গেছে নবি মুসা (আ.) ও ঈসা (আ.) আনীত শরিয়তের অনেক পয়গাম । সময়ের কশাঘাতে মনুষ্যসৃষ্ট অনেক নতুন বিষয়-আশয়ও আসন গেড়েছে তাদের শরিয়তে। তবে তিনি তাওরাত ও ইঞ্জিলের একনিষ্ঠ পাঠক। এ ছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থও তিনি অধ্যয়ন করেছেন ঢের। আরবের অল্প কয়েকজন ধর্মীয় পণ্ডিতের তিনি একজন এবং তাঁদের মধ্যে তিনিই একেশ্বরবাদী বিশ্বাসের প্রবক্তা। তিনি খ্রিষ্টবাদের নেন্তর বিশ্বাসী একজন সাধক। হিব্রু ভাষায় রচিত ইঞ্জিলের কিছু অংশ তিনি আরবিতে অনুবাদও করেছেন। হিব্রু, গ্রিক ও পার্সিয়ান ভাষায় রয়েছে তাঁর যথেষ্ট ব্যুৎপত্তি।

[৪]

কিন্তু ওয়ারাকার এখন বয়স হয়েছে, চোখের দৃষ্টিশক্তি খুব একটা জোরালো নয়। কালের দুর্বিপাক তাঁর চোখের আলো ছিনিয়ে নিয়ে চোখজুড়ে দিয়ে গেছে কেবল গাঢ় অন্ধকার। পৃথিবীর রূপ দেখার সৌভাগ্য আল-বিদা জানাচ্ছে তাঁকে ধীরে ধীরে।


চোখের দৃষ্টি না থাকলেও তাঁর অন্তর্দৃষ্টি যেন বাঁধনহারা। দুই চোখের বদলে তাঁর অন্তর্দৃষ্টি তাকিয়ে থাকে মহিমান্বিত পৃথিবীর দিকে। সে দৃষ্টি দিয়ে তিনি মরুর কলরোল শুনতে পান, পাহাড়ের গুঞ্জরন বুঝতে পারেন, হাওয়ায় কান পাতলে অনুভব করেন অন্যলোকের অলৌকিক ঝরনার শব্দ। প্রতিটি নৈঃশব্দ্য তাঁর জন্য বয়ে আনে একেকটি মুগ্ধকর দৃশ্যরূপ। তিনি শব্দের অনন্যতা দিয়ে অনুধাবন করেন আলোহীন পৃথিবী। দূর থেকে চাচাতো ভাই ওয়ারাকার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেনখাদিজা। এ বিদ্বান ভাইটিকে তিনি বেশ পছন্দ করেন। তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ধর্মানুভূতি তাঁকে আলোড়িত করে।

তাঁর বিজ্ঞদর্শিতা দেখলে মুহূর্তে শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে। এ কারণে ওয়ারাকা খাদিজার কেবল ভাই-ই নন, তিনি হয়ে উঠেছেন তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু এবং অভিভাবক। এমন বন্ধু, যাঁর কাছে খুলে বলা যায় হৃদয়ের সকল অভিলাষ, আশা ও বেদনার কাহিনিকাব্য। তাই যখনই কোনো প্রয়োজন পড়ে, খাদিজা পরামর্শের জন্য সবার আগে চলে আসেন ওয়ারাকার কাছে।

[৫]

জনহিতৈষী অনেক কাজে ওয়ারাকা সাহায্য করে থাকেন খাদিজাকে। এমনিতে খাদিজা অনেক বড় ব্যবসায়ী, তাঁর সম্পদও প্রচুর। কিন্তু তিনি শুধু একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেন না, সমাজের অনেক উন্নয়নমূলক কাজেও তিনি উদারহস্ত। বিশেষত আরবে কন্যাসন্তানদের অবজ্ঞা করার বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক উন্নাসিক আরব নিজের স্ত্রীর গর্ভে কন্যাসন্তান জন্মের সংবাদ শুনলে সঙ্গে সঙ্গে নবজাতিকাকে আঁতুড়ঘরে হত্যা করে ফেলে কিংবা কিছুদিন পর শিশুবস্থায়ই তাকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলে।


আরবে কন্যাসন্তান হত্যার এই প্রবণতার পেছনে অন্য অনেক কারণের মধ্যে প্রধান কারণ মূলত গোত্রীয় কৌলিন্য রক্ষা। গোত্রীয় ধ্বজাধারী লোকজন মনে করে, কন্যাসন্তান জন্ম নিলে একসময় এ মেয়েকে অন্য গোত্রের লোকজন বিয়ে করে তাদের শয্যাসঙ্গী করবে। এটা তাদের জন্য অপমানজনক। তেমনি তারা মনে করে, কন্যাসন্তান মানে একধরনের বোঝা। তারা যুদ্ধ করতে পারে না, গোত্রের সম্মান রক্ষায় লড়াইয়ে অংশ নিতে পারে না, জীবিকা উপার্জনে সক্ষম নয়। সন্তান জন্মদান ছাড়া তাদের আর কোনো সক্ষমতা নেই। এসব কারণে কন্যাসন্তান জন্মকে আরবের লোকজন অপয়া মনে করে। ফলে জন্মের পর বা শিশু বয়সে তাদের হত্যা করা একটা কুপ্রথায় পরিণত হয়েছে।


মক্কা ও আশপাশের অঞ্চলে এমন ঘটনা অহরহ ঘটত তখন। খাদিজা এমন নির্দয় পিতার ঘরে কন্যাশিশু জন্মের সংবাদ পেলে লোক পাঠিয়ে সে কন্যাকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন এবং তাদের প্রতিপালনের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন। শুধু প্রতিপালন নয়, প্রাপ্তবয়স্ক হলে তিনি তাদের যোগ্য ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেন। আর এসব কাজে তাঁকে অকুণ্ঠ সহযোগিতা করেন ওয়ারাকা ইবনে নওফেল। আরবের নারীমুক্তিতে খাদিজার এমন সাহসী পদক্ষেপকে ওয়ারাকা বরাবর সমর্থন দিয়ে আসছেন। মক্কার কুরাইশনেতাদের ভ্রুকুটি থেকে নিজের বোনকে সযত্নে সুরক্ষা করেন তিনি। পণ্ডিত ব্যক্তি বলে পারতপক্ষে তাঁর কথার অবাধ্য হওয়ার সাহস করে না কেউ।


৩য় পর্ব পড়ুন: 👉 এইখানে ক্লিক করুন

No comments

Powered by Blogger.