তোমায় ফেরাবে বলে | ইসলামিক গল্প | ফারজানা মিতু

[১]

- আজ দুপুরে কি রান্না করবো?মাছ নাকি মুরগি?
- তোমার যেটা ভালো লাগে সেটাই করো।আজ আমার খুব ইম্পরট্যান্ট একটা মিটিং আছে।আজ দুপুরে আর ফিরতে পারবোনা।
- আচ্ছা, তাহলে সন্ধ্যায় একটু তাড়াতাড়ি চলে এসো?তোমার প্রিয় পিঠা বানাবো।

হাতঘড়িটা পড়তে পড়তে তুহিন সম্মতিসূচক মাথা নাড়লো।অফিসের ফাইলটা হাতে নিয়ে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় পিছন ফিরে তাকালো।ঠোটের কোনে মিষ্টি হাসি হেসে বলে উঠলো-
'গুড বাই রেণু...'
-গুড বাই,সাবধানে ড্রাইভ করো।

তুহিনের সাথে রেণুর বিয়ের তিন বছর হতে চললো।এই বিশাল বাড়িতে রেণু আর তুহিন শুধু এই দুটো মানুষের বাস।তুহিনের বাবা-মা আমেরিকা থাকেন।ছোট বোনটারও বিয়ে হয়ে গেছে।
রেণুর বাবা-মা মারা যায় যখন রেণুর বয়স মাত্র ৬ বছর।সেই নির্মম এক্সিডেন্ট কেড়ে নেয় রেণুর সব কাছের আপনজনকে। নিঃসন্তান মামা-মামীর কাছেই বড় হয়েছে রেণু।রেণুর বাবার সবচে কাছের বন্ধুর ছেলে তুহিন।তুহিনের বাবা বিশাল ব্যবসায়ী।হার্টের সমস্যা দেখা দেয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকে নিয়ে গত ২বছর ধরে আমেরিকায় আছেন।সেই থেকে রেণু একা হয়ে গেছে।সারাদিন বাড়িতে একা থাকে আর তুহিনের ফিরে আসার প্রহর গুনে..

-হ্যা রেণু, বলো আমি অফিসে..
-এখনো অফিসে?৮টা যে বাজতে চললো।বাসায় আসবে কখন?
-মনে হচ্ছে আজ আর আসতে পারবোনা।একটা ক্লায়েন্ট মিটিং আছে।তারপর আরও কিছু কাজ আছে। তুমি খেয়ে ঘুমিয়ে যেয়ো প্লিজ..
- আচ্ছা ঠিক আছে।কিন্তু শোনো আজ নামাজ পড়েছো?
-উফফ রেণু আমার অনেক কাজ। আমার এখন নিঃশ্বাস ফেলারও জো নেই আর তুমি পরে আছো নামাজ নিয়ে।ফোনটা রাখলাম।
- হ্যালো তুহিন, তুহিন...

উফফ এই রেণুটাও না পারে।কোনো টাইম-টেবিল নাই সারাদিন শুধু নামাজ পড়ো নামাজ পড়ো জপতে থাকে।আমার মুডটাই নষ্ট করে দিলো।
- রাহাত, আমার জন্য এককাপ কড়া করে ব্ল্যাক কফি আনোতো।মাথাটা বড্ড ধরেছে।
-জ্বি স্যার, আনতাছি..

চেয়ারে মাথা এলিয়ে দেয় তুহিন।রেণুর কথা ভাবতে থাকে। রেণুর সাথে বিয়েটা হুট করেই হয়েছিলো ওর।বউ হিসেবে রেণু কোনো অংশে কম না।যেমনি দেখতে সুন্দরী তেমনি হাতের রান্না।একা হাতে গোটা বাড়িটা সামলে নেয়।এতো বছরের সংসারে একবারও তুহিনের উপর "উফফ" শব্দটি করে নি।এমন স্বামীভক্ত মেয়ে কমই পাওয়া যায়।তবে কিনা, রেণু বড্ড নিরামিষ। একটুও ঝগড়া করেনা।সারাদিন রান্নাবান্না ঘরের কাজ এসব নিয়েই নিজেকে ব্যস্ত রাখে।বোরিং...

[২]

- স্যার চলুন একটা ক্যাফেতে বসে কিছু খেয়ে নেই।আজ সারাটাদিন তো কাজে কাজেই কাটালেন।
-হ্যা চলো।ভালোয় ভালোয় ডিলটা ফাইনাল হয়ে গেছে এবার আর কোনো চিন্তা নেই।

ক্যাফেতে ঢুকে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলোনা তুহিন। তুহিনের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়েছে।এটাতো রেণু। পাঞ্জাবী টুপি পড়া একটা লোকের সাথে বসে আছে। রেণু নিকাব পরে আছে, তবু তুহিনের চিনতে একটুও ভুল হয়না।রেণু ঐ লোকটার সাথে কথা বলায় এতোটাই ব্যস্ত যে তুহিনকে চোখেও পরলোনা। এই লোকটার সাথে রেণু এখানে কি করছে?কেনো এভাবে দেখা করতে এসেছে?হাজারো প্রশ্ন তুহিনের মাথায় ঘুরতে লাগলো।কোনো মতে ক্যাফে থেকে বেড়িয়ে গেলো সে।সন্ধ্যায় বাড়িতেও ফিরলোনা।ভাবতে লাগলো  রেণু এমনটা কেনো করলো, কেনো....?

বিধ্বস্ত চেহারা নিয়ে বাড়িতে ফিরলো তুহিন।চোখে মুখে ক্লান্তি..

- আজ এমন দেখাচ্ছে কেনো?কিছু হয়েছে তোমার?
- কই?না তো।অফিসে কাজের একটু চাপ তাই আরকি..
- বুঝেছি।ফ্রেশ হয়ে নাও। আজ তোমার জন্য স্পেশাল একটা আইটেম রান্না করেছি।আমি টেবিল রেডি করছি তুমি চলে এসো।

তুহিন বুঝে উঠতে পারছেনা রেণুকে কিভাবে জিজ্ঞাসা করবে কথাগুলো।এই রেণু যাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায় সে কিনা লুকিয়ে কারো সাথে দেখা করবে? না না এটা কিছুতেই সম্ভব না।

-রেণু, তুমি আজ সারাদিন বাড়িতেই ছিলে?
- হ্যা, বাড়িতেই ছিলাম।বাড়ি ছেড়ে কোথায় যাবো বলোতো?

রেণু অবলীলায় এই মিথ্যেটা কিভাবে বললো?তুহিন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেনা।গলা দিয়ে খাবার নামছিলো না তুহিনের।মন জুড়ে অবিশ্বাসের ঝড় বয়ে যাচ্ছিলো আর তছনছ  করে দিচ্ছিলো সবকিছু।কোনোমতে খাবারটা শেষ করে উঠে গেলো তুহিন।চুপচাপ কোনো কথা না বলে ঘুমিয়ে পরলো।

ঘুম ভাঙলো রেণুর গলা পেয়ে।পাশের রুমে রেণু যেনো ফিসফিসিয়ে কার সাথে কথা বলছে।ঘুম ভাঙা চোখে তড়িঘড়ি করে উঠে গেলো পাশের রুমে।তুহিনকে দেখেই ফোনটা রেখে দিলো রেণু।অপ্রস্তুত চোখমুখ রেণুর।রেণুর চোখে চোখ রেখে তুহিন প্রশ্ন করলো-
- তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?
- কই, কারো সাথে না তো।এইতো গুনগুনিয়ে নাশীদ গাইছিলাম আর শুনছিলাম।তোমার ঘুম ভাঙিয়ে দিলাম বুঝি.?
- না, এমনিই উঠেছি।
-আচ্ছা, তুমি ফ্রেশ হও আমি নাস্তা রেডি করছি।

তুহিনের মনে ঝড় চলতে থাকে।আমিতো জানি রেণু তুমি কারো সাথে কথা বলছিলে তাহলে আমায় মিথ্যে কেনো বললে?কেনো আমায় এমন দো-টানায় রাখছো তুমি?কেনো রেণু?কেনো??

[৩]

ইদানীং রেণুর আচরণ বেশ বদলে গেছে।হুটহাট লুকিয়ে বাইরে চলে যায়,ফোনে ফিসিফিসিয়ে কারো সাথে কথা বলে।তুহিন সবটা দেখেও না দেখার ভান করে।নিজের মনে কষ্টটা জমিয়ে রাখে আর মনে মনে ভাবে একদিন রেণুর সাথে এই লুকোচুরি টা নিশ্চয়ই শেষ হবে।

- আজ একটু জলদি বাসায় ফিরতে পারবে?
- কেনো?আজ কি আছে?
- কিছুই নেই এমনিই।তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো তাই আর কি..
- কি কথা?এখনই বলো রেণু
- না, এখন না।সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে এসো তারপর বলবো।

একরাশ চিন্তা মাথায় নিয়ে বেড়িয়ে এলো তুহিন।রেণু কি বলবে সন্ধ্যায়?কি বলতে পারে আমায়? ও কি আমায় ছেড়ে দেবে? ও কি বলবে যে ও আমায় আর ভালোবাসেনা??হাজারো চিন্তা মাথায় ঘুরতে লাগলো সারাটাদিন।কাজে মন বসলো না।

ঘড়ির কাঁটা ৬টায় পৌছেছে।তুহিন অফিস থেকে বের হতে যাবে অমনি ফোনে কল আসলো।ধক করে উঠলো তুহিনের বুকটা।কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা রিসিভ করলো সে-
- হ্যালো?
-হ্যালো স্যার,আমি আরিফ কইতাছি।ম্যাডাম অজ্ঞান হইয়া গেছে।আমরা ম্যাডামরে হাসপাতাল লইয়া আইছি।আপনে অহনই আইয়া পরেন।
- হাসপাতালে কেনো?কি হয়েছে রেণুর?আরিফ তুমি কোথায় আছো?ল
- স্যার আমরা সিটি হস্পিটাল আছি।আপনি জলদি আইয়েন।

শশব্যস্ত হয়ে ছুটতে শুরু করলো তুহিন।রেণু অজ্ঞান কেনো হলো?কিইবা বলতে চাচ্ছিলো রেণু?সবটা, সবটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে তুহিনের।

- আরিফ, রেণু কোথায়?কি হয়েছে রেণুর?
- স্যার, ম্যাডামতো সারাদিন কাম কাইজ করলেন,ঘরদোর সাজাইলেন। কিন্তু সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ কইরাই অজ্ঞান হইয়া গেলেন কেনো বুঝলাম না।
- ঘরদোর সাজাচ্ছিলো মানে?
- স্যার, আপনে ম্যাডামের মামার লগে কথা কন।উনি সব কইতে পারবো বালা কইরা।

তুহিন তাজ্জব বনে দাঁড়িয়ে রইলো।তুহিনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে টুপি পাঞ্জাবী পড়া এক সুদর্শন পুরুষ। তিনি আর কেউ নন, সেদিন রেস্টুরেন্টে রেণু যার সাথে বসে ছিলো ইনি সেই মানুষটাই।তুহিন একবার দেখাতেই চিনে ফেললো।
-আপনি রেণুর মামা?
- হ্যা তুহিন, আমি রেণুর ছোট মামা।ব্যস্ততার কারনে তোমার সাথে দেখা হয়নি, তাই আমায় চেনার কথাও নয় তোমার।আমার বড় ভাইয়ের কাছেই রেণু মানুষ হয়েছে।আমি দেশের বাইরে থাকায় বিয়েতে আসতে পারিনি। আমার রেণু মায়ের জীবনটা শেষ হয়ে যাচ্ছে তুহিন, শেষ হয়ে যাচ্ছে..

মাটিতে ধপ করে বসে পড়লো তুহিন।ইনি রেণুর মামা?যাকে রেণুর সাথে জড়িয়ে কি থেকে কি ভেবেছে তুহিন।ছিঃ ছিঃ নিজের উপর ঘেন্না হচ্ছিলো তুহিনের।বুকের সবটা কষ্ট উজাড় করে কাঁদতে ইচ্ছে করছিলো।কিন্তু কান্নারা গলাতে এসে বিঁধে গেলো।অস্পষ্ট গোঙানী বের হয়ে এলো চাপা স্বরে..

-  বেশ কয়েকদিন হয়েছে আমি এ শহরে এসেছি।আমার অফিসের কিছু কাজ আছে তাই।রেণু জানতে পেরেই আমার সাথে যোগাযোগ করেছিলো।আজ তোমাদের বিবাহবার্ষিকী তাই তোমায় সারপ্রাইজ দিতে প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে আমার সাথে প্ল্যানিং করছিলো।সবটাই তোমায় লুকিয়ে করছিলো,ভেবেছিলো তোমায় চমকে দেবে। তোমার জন্য গিফটকেনা থেকে শুরু করে কি রঙের ফুল দিয়ে ঘর সাজানো হবে সবটা ও নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ঠিক করেছে।কিন্তু হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলো।চেকাপের পর ডক্টরের সাথে এইমাত্র কথা হলো।

- কি বললেন ডক্টর?কি বললেন উনি?প্লিজ চুপ করে থাকবেন না বলুন..
- রেণুর ব্রেইনে একটা টিউমার ধরা পড়েছে।টিউমারটা বেশ পুরোনো।এটা এমন একটা জায়গায়,যেখানে অপারেশন করাটা খুবই ডিফিকাল্ট।বাঁচার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি...
- না, না, না, আপনি মিথ্যে বলছেন।আমার রেণুর কিচ্ছু হতে পারেনা কিচ্ছুনা।আমি রেণুর কাছে যাবো।রেণু রেণু....

[৪]

বিধ্বস্ত দেহটা নিয়ে বাড়িতে ফিরলো তুহিন।সারা বাড়ি আলোয় আলোয় ঝলমল করছে।তুহিনের প্রিয় ফুল রজনীগন্ধার গন্ধে ঘর ম ম করছে।প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠে তুহিন।যেই মেয়েটা প্রতিদিন দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতো আজ সেই মেয়েটা জীবন মরনের সন্ধিক্ষণে।সেই মেয়েটাকে কিনা আমি খারাপ ভেবেছি ছিঃ ছিঃ..
ঘরে ঢুকে অজু করে জায়নামাজ বিছিয়ে বসলো তুহিন।আজ আল্লাহর কাছে চাইতে হবে।মন খুলে চাইতেই হবে।রেণু বলতো আল্লাহর কাছে চাইলেই পাওয়া যায়। এশার নামাজ শেষ করলো তুহিন।মোনাজাতে দু হাত বাড়িয়ে দিলো রবের দিকে,কেঁদে কেঁদে বলে উঠলো-

-"ইয়া আল্লাহ,আপনার কাছে আমি চাইতে জানিনা,আমি অপারগ আপনি আমায় মাফ করে দিন আল্লাহ।আপনি দয়া করুন। ইয়া রহমানুর রাহীম,আমার রেণুকে আপনি ফিরিয়ে দিন!"

অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগলো তুহিন।হঠাৎ টেবিলের উপর একটা কার্ড আর একটা গিফট দেখতে পেলো।কার্ডে লেখা ছিলো-
" আজ আমাদের সংসারের ৩ বছর পূর্ণ হলো।জীবনের বাকি বছরগুলোও যেনো এভাবেই কেটে যায়..
    love you Tuhin"
র‍্যাপিং পেপার খুলতেই বেড়িয়ে এলো সুন্দর একটা হাতঘড়ি।ঘড়ির বেল্টে তুহিনের নাম লেখা।অন্য বেল্টে লেখা "Someone cares for you dear"..

তুহিনের পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যাচ্ছিলো।কান্নার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছে সে।ধপ করে চেয়ারে বসে পড়লো।চিন্তা করার শক্তিটুকুও বাকি রইলোনা।বুকের ভেতর তোলপাড় চলছে।হাজার বছরের কালবৈশাখী ঝড় যেনো তছনছ করে দিছে মনের ভেতরটায়।হৃদপিন্ড যেনো এক প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তুহিনের ফোন বেজে উঠে-
- হ্যালো ভাইয়া?
-হ্যা তিতির বল্
-ভাইয়া তুমি জলদি এসো ভাবীর জ্ঞান ফিরেছে..
.
.
-রেণু তুমি সুস্থ হয়ে যাও প্লিজ।আমি তোমায় ছেড়ে থাকতে পারবোনা।
-ইনশাআল্লাহ, আমি সুস্থ হবো।কিন্তু তুমি কথা দাও কোনোদিন নামাজ মিস করবেনা।কথা দাও আমায়।
- হ্যা রেণু আমি কথা দিচ্ছি।আমি আমার রবকে চিনেছি রেণু, আমি চিনেছি..এখন শুধু তুমি ভালো হয়ে যাও।আর কিচ্ছু চাইনা আমি।আর কিচ্ছুনা..

এক সপ্তাহের মাথায় চুপচাপ রবের মেহমান হয়ে চলে গেলো রেণু।পাথর হয়ে তাকিয়ে রইলো তুহিন।জীবন্ত লাশের মতো নিথর হয়ে গেলো...

[৫]

এশার নামাজ শেষ।
ক্লান্ত অবসন্ন ফোলা ফোলা চোখদুটো একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে ঘুটঘুটে কালো আকাশের দিকে।নিঃশ্বাসের চলাচলটা আজ স্বাভাবিক।জানালার পর্দাগুলো অযত্নে ধূসর হয়ে গেছে।ঘরের কোণে থাকা পড়ার টেবিলটা বড্ড অগোছালো।টেবিলের পাশের সোফাটায় জমা হয়ে আছে কয়েক সপ্তাহের ময়লা শার্ট,একটা জিন্স আর গোসলের টাওয়াল।বিছানার এককোনে ল্যাপটপটা আধখোলা,,ছড়িয়ে আছে কয়েকটা পুরোনো কাগজ।আঁধারে ঢাকা আকাশের দিক থেকে চোখটা সরিয়ে নিলো তুহিন।বসে থাকা কাঠের চেয়ারের হাতলটা শক্ত করে চেপে ধরলো।
চোখের পাপড়ির বারন না মেনে অপলক তাকিয়ে রইলো হাতঘড়িটার দিকে।
ঘড়িটা দিয়েছিলো রেণু...

আজ রেণু হীন জীবনের ৩ বছর হতে চললো।রেণুর ডায়েরীটা খুব যত্নে তুলে রেখেছে তুহিন।ডায়েরির প্রতিটা পাতায় শুধু তুহিনের অস্তিত্ব...রেণুর লেখা শেষ কটা লাইন আঁকড়ে আজও বেচে আছে তুহিন-

" আমি জানি তুহিন তুমি একদিন আমার রবকে চিনবে।সেদিন সালাতে তুমি একটুও বিরক্তি দেখাবেনা।আমি থাকি বা না থাকি, রব ঠিকই তোমায় নিজের আপনজন বানিয়ে নিবেন।জান্নাতের সবুজের আঙিনায় আমাদের এক টুকরো সংসারের বড্ড সাধ পুষি প্রিয়!

দেখে যাও আজ মহাসমারোহে
তোমায় ফেরাবে বলে,
মহান রবের আরশের নিচে
কতো আয়োজন চলে..."

আকাশের দিকে আবারও তাকায় তুহিন।মেঘেদের ভীড়ে রেণুর চেহারা খোঁজার চেষ্টা করে।

এই আয়োজন আমি বৃথা হতে দেইনি রেণু। দেখো, আমি ফিরেছি।আজ আমি সত্যিই ফিরেছি।আমায় যে ফিরতেই হতো...!


লেখক: ফারজানা মিতু



No comments

Powered by Blogger.