গল্প 'অপেক্ষা' লেখক অরিন খান
'অপেক্ষা'
টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে সেই সকাল থেকে। ইটালির পালেরমো শহরে রাস্তাগুলো আজ ছাতা দিয়ে পরিপূর্ণ! আমার বিশ্বাস ড্রোন দিয়ে উপর থেকে ছবি তোলা হলে খুব সুন্দর একটা ছবি আসবে এই বৃষ্টিস্নাত দিনের। কাঁধে একটা ব্যাগ আর হাতে কিছু বই নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি একটি বেকারির সামনে। ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় আকাশের অবস্থা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল আজ সারাদিন বৃষ্টি হবে, তারপরও কেন জানি ছাতা নিয়ে বের হতে ইচ্ছা করলো না । আমার অবস্থা বরাবরই এরকম, কেন যেন ছাতাটাকে বাড়তি যন্ত্রণা মনে হয়!
রাস্তায় রেড সিগন্যালের জন্য দাঁড়িয়ে আছি আমি। আমার গন্তব্য রাস্তার ওপারের ছোট্ট লাইব্রেরী। এই ব্যস্ত শহরে যেখানে আসে পাশে বড় বড় কংক্রিটের দালান সেখানে ছোট্ট পরিসরে সাজানো গোছানো একটা লাইব্রেরী! এ ক'মাসে ইটালির প্রবাস জীবনে লাইব্রেরীটা আমার প্রিয় জায়গা হয়ে উঠেছে।
রেড সিগনাল পড়ার সাথে সাথে গাড়িগুলো থেমে গেল। আমি খুব সাবধানে সানন্দে রাস্তা পার হলাম। বাংলাদেশ হলে কথা ভিন্ন, সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। মাথার ওপর বই গুঁজে কোনরকম দৌড়ে ঢুকলাম লাইব্রেরী ভিতর। আমাকে দেখে বৃদ্ধ লাইব্রেরিয়ান এগিয়ে এলেন ।
- সেকি তুমি তো একদম ভিজে গেছ।
আমি মুচকি হেসে বললাম - কই তেমন না!
তিনি খুব বিনয়ের সাথে নিজের পকেট থেকে একখানা রুমাল বের করে আমার দিকে এগিয়ে ধরলেন। আমি হাসিমুখে তা গ্রহণ করলাম।
মিস্টার পিকাসো জিজ্ঞেস করলেন - কফি খাবে ডিয়ার?
- কেন নয়? আপনার কফি খাওয়ার জন্যই তো এখানে আসা।
মিস্টার পিকাসো মুচকি হেসে চলে গেলেন রান্নাঘরের দিকে।
সত্যি বলতে আমি মূলত কফি খাওয়ার জন্যই এই লাইব্রেরীতে আসি। কি দুর্দান্ত কফি বানান উনি! মিস্টার পিকাসোর এ লাইব্রেরীতে আমি এসেছিলাম প্রায় দু মাস আগে তাও বৃষ্টি থেকে বাঁচতে। এখানে পিএইচডির এত ঝামেলার ওপর লাইব্রেরীতে বসে বসে বই পড়ার ইচ্ছেটা মরে গেছে, তাই লাইব্রেরীতে আর ঢোকা হয় না তেমন। কিন্তু সেদিন বৃষ্টি থাকার কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই গা বাঁচাতে ঢুকে ছিলাম এ লাইব্রেরীতে । মিস্টার পিকাসো প্রথম দিন থেকেই এমন ভাবে কথা বলেন যেন আমাকে উনি অনেক আগে থেকেই চেনেন! প্রথম দিনই উনি আমাকে নিজের হাতের বানানো কফি খাইয়েছিলেন তারপর থেকে কেন যেন রোজই আসা হয়। মন খারাপ থাকলে বা বাড়ির কথা বেশি মনে পড়লে চলে আসি এখানে, আধা ঘন্টা এক ঘন্টা পার করি উনার সাথে টুকটাক গল্প করে আর উনার সেই দুর্দান্ত কফি খেয়ে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো উনি যে জায়গাটায় লাইব্রেরি খুলেছেন সেটা মূলত তার নিজের বাসা। একটা রুম কে লাইব্রেরী হিসেবে সাজিয়েছেন ,পাশেই রান্নাঘর আর উনার থাকার জন্য একটা বেডরুম আছে। উনার লাইব্রেরীতে তেমন ভিড় থাকে না কখনো। হাতে গোনা দু একজনকে দেখা যায় যারা পুরনো বই পড়তে ভালোবাসে। কেননা এই লাইব্রেরীতে নতুন কোন বই নেই , সব বই বেশ পুরনো।
কিছুক্ষণ পর মিস্টার পিকাসো কফির কাপ নিয়ে আমার কাছে আসলেন। অন্যদিন তাও কিছু মানুষ থাকে আজকে একদম পুরো ফাঁকা লাইব্রেরী।
- আজকে মনে হয় বৃষ্টির কারণে আপনার লাইব্রেরীতে কেউ আসেনি।
মিস্টার পিকাসো কিছুক্ষণ চুপ থেকে জবাব দিলেন - হ্যাঁ তাই হয়তোবা ।
আমি একটা চেয়ার সরিয়ে বললাম - বসুন কিছুক্ষণ গল্প করি।
সত্তর ঊর্ধ্ব মানুষটি একটু মুচকি হেসে আমার অনুরোধ রাখলেন।
বরাবরের মতোই কফিতে এক চুমক দিতেই মুগ্ধ হয়ে গেলাম।
- জানেন মিস্টার পিকাসো আমি আপনার লাইব্রেরীতে কিন্তু বই পড়তে আসি না ! আপনার হাতের এক কাপ কফি খেতেই আসি।
- ( একটু মুচকি হেসে) আমি জানি! তুমি রোজ কফি নিয়ে এমনি বই নাড়াচাড়া করো, কফি খাওয়া শেষ হলে চলে যাও।
কিছুটা লজ্জা পেয়ে হাসলাম আমি।
মিস্টার পিকাসো লাইব্রেরীর বাইরের দৃশ্য দেখছেন। লাইব্রেরীর সামনের দিকটা কাচের গ্লাস দিয়ে করা হয়েছে বিধায় ভেতর থেকে বাইরের দৃশ্য ভালোভাবে দেখা যায়, যদিও বৃষ্টির পানির কারণে এখন আবছা দেখা যাচ্ছে। আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই মিস্টার পিকাসো বললেন - জানো আজকে সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ।
- হু
- এই দিন জুলিয়ার সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল আমার।
কথাগুলো তিনি বাইরের দিকে তাকিয়েই বললেন। আমি একটু আগ্রহ নিয়ে নড়েচড়ে বসলাম।
- জুলিয়া কে? আপনার..
- আমার স্ত্রী!
- ও আচ্ছা! উনি কোথায় এখন?
মিস্টার পিকাসো কোন উত্তর দিলেন না, যেন কোন চিন্তার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন উনি।
নিজের আগ্রহকে দমাতে না পেরে আবার জিজ্ঞেস করলাম - উনি এখন কোথায়?
বাইরে থেকে চোখ সরিয়ে মিস্টার পিকাসো নিজের চোখে থাকা মোটা গ্লাসের চশমাটা পরিষ্কার করে আবার পড়ে নিলেন। আমার দিকে তাকিয়ে বলা শুরু করলেন - ১৯৬৭ সালের কথা জুলিয়ার সাথে প্রথম দেখা আমার এই লাইব্রেরীতেই। আমি ছিলাম তখন ২০ বছরের যুবক আর জুলিয়ার বয়স কেবল ১৭। এই লাইব্রেরীতে মাত্র কয় টাকা বেতনে চাকরি নিয়েছিলাম। জুলিয়া প্রায় রোজ বিকেলে আসতো এখানে বই পড়তে। সেই থেকে ওর সাথে দেখা। এখনকার মত সে জামানার মানুষ এতটা খোলামেলা কথা বলতে পারতো না । আমি ওকে চুপি চুপি দেখতাম, জুলিয়াও বই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আমাকে লক্ষ্য করত। কথা নেই, ভাব বিনিময় নেই কিন্তু বুঝতাম দুজন দুজনকে পছন্দ করি। আমাদের এই ব্যাপারটা টের পেয়ে গিয়েছিলেন আমাদের লাইব্রেরির মালিক। লাইব্রেরিয়ান আমাকে নিজের ছেলের মত ভালবাসতেন। তার উদ্যোগে জুলিয়ার পরিবারের সাথে কথা , তারপর উনি নিজ দায়িত্বে বিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের। বিয়ের পর আমার মাইনেও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন কিছুটা।
মিস্টার পিকাসো হাসলেন।
আমি আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম - তারপর?
- তারপর আর কি! শুরু হলো আমাদের ছোট্ট সংসার। আমার অর্থকড়ী তেমন ছিল না, কোনরকম দুজনের সংসার চলে যেত। মাঝে মাঝে সংসারের টানাপোড়া বাড়লে দুজনের চেহারায় মলিন হয়ে যেত কিন্তু কেউ কাউকে কখনো বুঝতে দিতাম না। আমার থেকে বেশ ভাল ছিল জুলিয়ার পরিবার। আমাদের সংসারের টানাপোড়া বেশ ভাবাতো জুলিয়ার পরিবারকে। জুলিয়ার মা বেশ বিরক্ত ছিল আমার উপর। রোজ জুলিয়াকে বোঝাতো আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু জুলিয়া কখনো যেতে চাইতো না। দেখতে দেখতে সংসারের দু বছরের মাথায় আমাদের ঘরে ফুটফুটে একটা মেয়ের জন্ম হলো। দুজনে মিলে ওর নাম দিলাম ফ্লোরেন্স। যে সংসারে দুজন চলতে কষ্ট হয় সেখানে তৃতীয় জনের আগমন সুখের হলেও চিন্তার শেষ ছিল না। সংসার চালানোর জন্য জুলিয়াও নতুন একটা চাকরি ধরে ছিল কিন্তু ফ্লোরেন্সের আসার পর সেটা ছেড়ে দিতে হলো।
এতকিছুর মধ্যেও রোজকার স্বভাব মতোই একবার হলেও জুলিয়া লাইব্রেরীতে আসতো । আগে একাই আসতো আর ফ্লোরেন্স হওয়ার পর ফ্লোরেন্সকে সাথে নিয়েই আসতো । কেননা আমি সকালে এসে রাতে ফিরতাম , সারা দিনের মধ্যে একবার টা আমার চেহারা ওর না দেখলে ভালো লাগতো না ! তাই রোজ বিকেলে একবার হলেও সে আমাকে দেখতে আসতো।
অজান্তে আমার মুখ থেকে বের হয়ে গেল - কি রোমান্টিক!
মিস্টার পিকাসো হেসে মাথা দুলালেন, - হ্যাঁ সত্যি তাই।
মিস্টার পিকাসো দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লেন।
আমি জিজ্ঞেস করলাম - কি হলো তারপর?
- তারপর আর কি! হঠাৎ একদিন ফ্লোরেন্সের শরীর ভীষণ খারাপ করল। ঘন ঘন বমি করতে লাগলো ও । জুলিয়ার ফোন পেয়ে আমি ফ্লোরেন্সকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার কিছু টেস্টের ওষুধ দিল। ওষুধগুলো আনতে পারলেও টেস্ট আর চিকিৎসার জন্য যে টাকার দরকার ছিল সেটা জোগাড় করতে বেশ খানিকটা সময়ের দরকার ছিল। যে লাইব্রেরিতে কাজ করতাম সে লাইব্রেরিয়ান ও তেমন স্বচ্ছ ছিলেন না, ওই লাইব্রেরী টুকুই তার সম্বল ছিল। তাই তিনি ওইভাবে আমাকে সাহায্য করতে পারছিলেন না। জুলিয়ার মা টাকা দিতে চাইলেও আমি মানা করে দিয়েছিলাম, ওই যে একটা রাগ ছিল উনার প্রতি আমাকে আর জুলিয়াকে আলাদা করার জন্য। আমি আরো কাজ খুজতে লাগলাম। লাইব্রেরীতে সারাদিন কাজ করার পর রাতে বাড়ি না ফিরে আর একটা জায়গায় পার্ট টাইম জব করতে লাগলাম। ফ্লোরেন্সের অবস্থা দিন দিন কেমন নেতিয়ে যাচ্ছিল । সংসারের টানাপোড়া , ফ্লোরেন্সের চিকিৎসার অবহেলা এ নিয়ে আমার আর জুলিয়ার মধ্যে রোজ কথা কাটাকাটি হতে লাগলো। আমাদের সুখের সংসার কেমন যেন এলোমেলো হতে লাগলো। জুলিয়া লাইব্রেরীতে আসা বন্ধ করে দিল, ফ্লোরেন্সকে নিয়েই সারাদিন বাসায় থাকতো। অন্যদিকে আমি একটু একটু করে ফ্লোরেন্সের চিকিৎসার জন্য টাকা জমাচ্ছিলাম। আর কিছুটা বাকি ছিল । মনে তখন প্রশান্তি এলো, যাক আর কয়েকটা দিন কাজ করলে হয়ে যাবে ওর চিকিৎসার টাকা। সেদিন রাতে বাসায় ফেরার সময় জুলিয়ার জন্য কয়েকটা গোলাপ কিনলাম। এতদিনের ঝগড়ায় কেমন তিক্ত হয়ে উঠেছিল সম্পর্কটা! আজকে না হয় ওর কানে গোলাপ গুঁজে কিছুক্ষণ ভালোবাসার গল্প করব। কিন্তু সেটা আর করা হলো না!
বাসায় যেয়ে দেখি জুলিয়া কেমন পাথর হয়ে আছে আর ওর কোলে আমাদের ছোট্ট ফ্লোরেন্সের নিথর দেহ!
আমার কলিজার ভেতর কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠলো! মিস্টার পিকাসো নিজের চোখের কোনে জমা পানি টুকু মুছে নিলেন। আমার সাহস হচ্ছিল ছিল না এরপর কি হয়েছে তা জিজ্ঞেস করার। মিস্টার পিকাসো নিজেই শুরু করলেন আবার - এরপর কেমন যেন সব কিছু বদলে গেল। আমরা ফ্লোরেন্স কে দাফন করলাম। ফ্লোরেন্স মারা যাওয়ার পর জুলিয়া আমার সাথে একটি কথাও বলেনি । একই ঘরে আমরা থেকেছি চুপচাপ নিঃশব্দে কারো সাথে কারো কোন কথা নেই। ফ্লোরেন্স মারা যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে জুলিয়ার মা জুলিয়াকে প্রায় তিন চারবার নিতে এসেছিল। জুলিয়া কখনো আমাকে ছেড়ে যাবে না এটা আমার বিশ্বাস ছিল কিন্তু একদিন আমার সেই বিশ্বাস ভেঙে চুর চুর হয়ে গেল। সে দিনও রোজকার মতো কাজ করে বাসায় ফিরলাম । কোন সাড়া শব্দ নেই, যেটা কয়েকদিন ধরে নেই । আমি ভাবলাম জুলিয়া হয়তো শুয়ে আছে নিজের রুমে কিন্তু না সেখানেও নেই। টেবিলের উপর একটা খাম পেলাম, খামে একটা চিঠি।
" শুরুটা বেশ ভালই ছিল আমাদের, ভেবেছিলাম কষ্ট হোক কিন্তু এভাবেই বুঝি ভালবাসার মধ্য দিয়ে জীবনটা পার হয়ে যাবে! কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তুমি চাইলেই মার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফ্লোরেন্সের চিকিৎসা করতে পারতে । তাহলে আজ হয়তো ফ্লোরেন্স বেঁচে থাকত আমাদের মাঝে। আমার কোন অভিযোগ নেই তোমার প্রতি কিন্তু বিশ্বাস কর ফ্লোরেন্সের মৃত্যুর জন্য আমি তোমাকে কোনদিন মাফ করতে পারবোনা, কোনদিন না! এভাবে মৃতের মত জীবন আমি তোমার সাথে কাটাতে পারব না । তাই চলে যাচ্ছি! ভালো থেকো পিকাসো, আমাকে খোঁজার চেষ্টা করো না।
~জুলিয়া~"
মিস্টার পিকাসো চুপ হয়ে গেলেন । আমার কেমন দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমি উনার অবস্থা বিবেচনা না করেই জিজ্ঞেস করলাম - আপনি জুলিয়াকে খুঁজতে যাননি? জুলিয়া কি সত্যি চলে গিয়েছিলেন?
- হ্যাঁ খুঁজেছি। ওর মায়ের বাড়ি অনেকবার গিয়েছি। কিন্তু ওর মা সবসময় একই উত্তর দিয়েছে উনি জানেন না জুলিয়া কোথায়। আমার সাধ্যমত অনেক খুঁজেছি ওকে কিন্তু আর পাইনি! জুলিয়া আমার জীবন থেকে এভাবে হারিয়ে যাবে আমি কখনো চিন্তাও করিনি! চার বছরের সংসার জীবন ছিল আমাদের। মরে যেতে চাইলে মরে যেতে পারতাম কিন্তু আমি বেঁচে আছি জুলিয়ার মুখের কথা শোনার জন্য, বেঁচে আছি ওকে একবার দেখার জন্য । ওকে অনেক কিছু বলার আছে আমার, অনেক কিছু ব্যাখ্যা করার আছে । ফ্লোরেন্স মারা যাওয়ার পরে যে ও কথা বন্ধ করে দিয়েছিল আজ কতটা বছর হয়ে গেল ওর কণ্ঠস্বর শুনিনা। আমার বেঁচে থাকার অনেকগুলো কারণ আছে তাই বেঁচে আছি। লাইব্রেরিয়ানের কোন সন্তান ছিল না তাই মারা যাওয়ার আগে এই লাইব্রেরী টা তিনি আমার নামে করে দিয়ে গিয়েছিল, আমিও সেটা আগলে
রেখেছি । কেন জানি আমার মনে হয় হয়তো একদিন জুলিয়া আবার আসবে এই লাইব্রেরীতে, আবার হয়তো দেখা হবে আমাদের!
মিস্টার পিকাসো এবার শব্দ করেই কাঁদছেন । এ দুনিয়ায় এখনো এমন মানুষ আছে ? যে নিজের চার বছর করা সংসারের টানে বিয়ে না করে এখনো সেই বউয়ের জন্য অপেক্ষা করে আছে! সত্যিই কিছু কিছু ভালোবাসা সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি অনেক কষ্টেরও হয়। উনাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার কাছে নেই। আমি উনাকে উনার মত ছেড়ে লাইব্রেরির বাইরে বেরিয়ে এলাম। বৃষ্টি থেমে গেছে অনেক আগেই তবে মেঘের গুড় গুড় শব্দ শোনা যাচ্ছে এখনো। হয়তো আবারো বৃষ্টি নামবে । আমার হোস্টেলে ফিরতে হবে জলদিই । কেন যেন মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে । উনাদের দুজনের দেখা হওয়ার দৃশ্যটা না জানি কতই সুন্দর হবে। এত দিন পর দেখা হওয়ার পর তাদের কথোপকথনই বা কেমন হবে? আর যদি দেখা না হয় কোনদিন?!! কিচ্ছু ভাবতে পারছি না , শুধু মনে হচ্ছে ইশ্ যদি পারতাম তাদের আবার দেখা করিয়ে দিতে!
লেখক: অরিন খান

No comments