স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক || লেখক তানহা তনু || Relation between husband and wife
স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক
প্রিয় বোন,
জীবনটা খুব বেশি সংক্ষিপ্ত। ফেমিনিজম আর পুঁজিবাদের শিখিয়ে দেওয়া এসব বুলি চলুন না মাথা থেকে ঝেরে ফেলি। চলুন না নিজেদেরকে প্রিয় মানুষটার এতোটা প্রিয় করে গড়ে নিই, প্রিয় মানুষটার হৃদয়ের এমন এক শীতলতায় নিজেদেরকে পরিণত করে নিই যেনো আজ মারা গেলে আমার জানাযায় অসংখ্য মানুষের সামনে সে কেঁদে কেঁদে বলে "ওয়াল্লাহি, আমার স্ত্রীর উপর আমি সন্তুষ্ট। হে লোক সকল! আপনারা সাক্ষী হয়ে থাকুন,আমি আমার স্ত্রীর উপর সন্তুষ্ট।"
আপনার পাশে ঘুমানো মানুষটার সাথে আপনার সম্পর্ক প্রতিযোগিতার নয় বোন, প্রতিদ্বন্দ্বিতারও নয়। আল্লাহ আপনাদের দুজনকে তো দুজনের পোশাকস্বরূপ বানিয়েছেন। পোশাকের কাজ কিন্তু শুধু আব্রু রক্ষাই না। একেক সময় পোশাক একেকটা কাজ করে। গ্রীষ্মের তপ্ত গরমে আরামদায়ক একটা পোশাক আপনাকে যেমন আরাম দেয়,একই ভাবে শীতকালে এই পোশাকই আপনাকে উষ্ণতা দান করে। বাইরের বিভিন্ন নোংরা,ধূলাবালি থেকে রক্ষা করে একটা উপযুক্ত পোশাক আমাদের শরীরকে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটাও তো তেমনই বোন। আপনি শুধু আপনার জাওজের চরিত্র রক্ষার ঢালই নন। তার সুখ-দুঃখের সাথীও। সুখের দিনে যেমন তার সুখে আনন্দিত হবেন, তেমনি দুঃখের দিনে তার মনোবল বাড়ানোর দায়িত্বটাও তো আপনারই। আপনিই তো তার কুররাতু আইয়্যুন যার দিকে তাকালে তার চোখ শীতল হয়ে যাবে। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বাসায় ফেরার পর আপনার একটু কেয়ারের মাঝেই তো সে সব কষ্ট ভুলতে চাইবে। একজন সত্যিকারের পুরুষ কিন্তু আপনার থেকে টাকা-পয়সা চায় না। সে শুধু একটু কেয়ার, একটু ভালোবাসা, একটু প্রশান্তি চায়।
সে বাসায় ফেরার পর একটু কেয়ারের পরিবর্তে আপনি যদি অভিযোগের ঝুলি মেলে বসেন, তাহলে মানুষটা যাবে কোথায় বলেন? আজকাল কি এক রান্নাবান্না নিয়ে আমার বোনেরা মারামারি করছেন! রান্নাবান্না বুঝি মারামারি, ঝগড়াঝাটি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার? আমরা নারীরা তো শখ করেই পরিবারের মানুষদের জন্য এটা ওটা রাঁধতে চাই বোন। এতো সিলি ব্যাপার নিয়ে প্রিয় মানুষের প্রতি অভিমান করলে হয় বুঝি? এখনকার সংসারগুলোও দেখুন কত ছোট! সাইন্সের অগ্রযাত্রায় কত সহজ হয়ে গেছে জীবনযাপন! আদা-রসুন পেস্ট থেকে শুরু করে ভাত-পোলাও করা সবই সাইন্সের কল্যাণে সহজ হয়ে গিয়েছে। তারপরও এসব নিয়ে অভিযোগ মানায় না বোন। আমি যাকে ভালোবাসি তাকে তো ভালোবেসেই এটা ওটা বানিয়ে খাওয়াবো। যাকে ভালোবাসা হয় তার জন্য তো ভালোবেসে এতোকিছু করেও মন তৃপ্ত হয়না; আরো কিছু করতে মন চায়।
জীবন তো একটাই; তাও কত সংক্ষিপ্ত! সম্পর্কগুলোকে জটিল করে ফেলার কোনো মানেই হয়না। সম্পর্ক তো শুধু কামিটমেন্ট বা ডিল না। সম্পর্ক তো সে রাগ করে না খেলে মুখ ফুলিয়ে তাকে গিয়ে বলা "এই যে আপনি আমার উপর রাগ করে খাবেন না তাই তো? ঠিকাছে আমিও খাবো না। আপনি যতক্ষণ না খেয়ে থাকবেন আমিও না খেয়ে থাকব" একটু পর দেখা যাবে সে নিজেই ভাত বেড়ে এনে এক প্লেট থেকে নিজেও খাচ্ছে আর আপনাকেও খাইয়ে দিচ্ছে। অথবা ভাত মেখে এনে আপনি নিজেই জোর করে তার মুখে ঢুকিয়ে দিলেন।
সম্পর্ক তো ঝগড়া হলে দুজন রাগ করে আলাদা আলাদা রুমে রাত যাপন নয়, সম্পর্ক হবে এমন যে ঝগড়ার শাস্তিস্বরূপ তাকে জ্বালানোর জন্য ঘুমের মাঝে বারবার তার শরীরে হাত-পা তুলে দেওয়া, একটু পর আপনার হাত-পাকে ফিক্সড করতে সে আপনাকেই আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়বে। আর আপনার ঠোঁটের কোণে নাহয় থাকবে হালকা মুচকি হাসি...
শাহ মুহাম্মদ তন্ময় ভাইয়ার একটা কথা ভীষণ ভালো লেগেছিলো— "সম্পর্ক তো এক বিঘা জমিন নয় যে বিচার শেষে হয় তুমি জিতবে নয়তো আমি। সম্পর্কে জিততে হলে দুজনকে একসাথে জিততে হয় আর হারলেও দুজনকে একসাথেই হারতে হয় প্রিয়"
জীবন অনেক বেশি সংক্ষিপ্ত। সম্পর্কগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয় বরং ভালোবাসার হোক। কেউ একজন হেরে যাওয়া মানে যে দুজনই হেরে যাওয়া প্রিয়।
লেখক: তানহা তনু
To Follow her on facebook click on her name.

No comments